সাইবার অভিযোগে কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম এলে ব্যাংক সেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (ডেবিট ফ্রিজ) করতে পারে, অথবা বিতর্কিত টাকার ওপর লিয়েন বসাতে পারে। এতে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি, প্রতারকের টাকা অজান্তে পাওয়া দোকানদার, কিংবা যাঁর অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ ব্যবহার করেছে, সবাই আটকে পড়তে পারেন। এই পাতায় প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় বলা হয়েছে।
অ্যাকাউন্ট কেন ফ্রিজ হয়
জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালে (cybercrime.gov.in) বা ১৯৩০ হেল্পলাইনে অভিযোগ করা হলে তা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে যায়। পুলিশ বা সাইবার সেলের চিঠির ভিত্তিতে ব্যাংক টাকা তোলা ও পাঠানো বন্ধ করে দেয়। সেভিংস, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট ও যুক্ত ইউপিআই আইডি, সবই এর আওতায় আসতে পারে।
আইন কী বলে
- ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ (বিএনএসএস)-এর ১০৬ ধারা: চুরি বা অপরাধের সন্দেহজনক সম্পত্তি পুলিশ জব্দ করতে পারে এবং জব্দের কথা অবিলম্বে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হয়।
- ডেবিট ফ্রিজ এই ধারায় পড়ে কি না: এ নিয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের মত আলাদা। কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান অবস্থান মামলা দাখিলের সময় যাচাই করে নেওয়া দরকার।
- ১০৭ ধারা: অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ লাগে।
- ৪৯৭ ও ৫০৩ ধারা: জব্দ সম্পত্তির হেফাজত ও ছাড়ের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন।
- সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ: ম্যাজিস্ট্রেটকে না জানিয়ে ফ্রিজ করা হলে, তদন্ত না এগিয়ে ফ্রিজ দীর্ঘদিন চললে, বা বিতর্কিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আটকে থাকলে হাইকোর্টে রিট করা যায়।
সাধারণত যে প্রতিকারগুলি চাওয়া হয়
- পুরো অ্যাকাউন্ট ছাড়ানো, যদি বিতর্কিত লেনদেনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টধারীর সম্পর্ক না থাকে।
- ফ্রিজ শুধু বিতর্কিত অঙ্কে সীমিত রাখা, যাতে বাকি টাকা ব্যবহার করা যায়।
- বিতর্কিত অঙ্ক জমা রাখার মুচলেকায় শর্তসাপেক্ষে অ্যাকাউন্ট চালু করা।
- ব্যবসার অ্যাকাউন্ট ছাড়ানো, যেখানে বেতন, জিএসটি ও সরবরাহকারীর টাকা এর ওপর নির্ভর করে।
কোন প্রতিকার উপযুক্ত তা মামলার তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
প্রতারণার টাকা ফেরত পেতে প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ
- অবিলম্বে ১৯৩০ হেল্পলাইনে বা cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ করুন এবং ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান।
- এফআইআর করুন। বিএনএসএস-এর ১৭৩ ধারায় যে কোনও থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করা যায়।
- স্ক্রিনশট, লেনদেনের আইডি, কল লগ ও বার্তা সংরক্ষণ করুন।
ব্যাংকে আটকে থাকা টাকা শিকার ব্যক্তিকে ফেরত দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ লাগে। টাকা ফেরত পাওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
সাধারণত কী কী কাগজ লাগে
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম
- ফ্রিজ বা লিয়েনের নোটিস এবং পুলিশ বা সাইবার সেলের চিঠি
- যে লেনদেনের জন্য ফ্রিজ, তার বিবরণ এবং টাকাটি বৈধ প্রাপ্তি হওয়ার প্রমাণ
- পরিচয় ও ঠিকানার নথি; ব্যবসার অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও জিএসটি-র কাগজ
কোন আদালতে
শিলিগুড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা আদালত; কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ; কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযোগ অন্য রাজ্যের পুলিশের হলে সঠিক আদালত নির্ভর করে ফ্রিজের আদেশ কোথা থেকে হয়েছে তার ওপর। বিস্তারিত: ইংরেজি পাতা।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ফ্রিজ কতদিন থাকে?
বিএনএসএস-এ ডেবিট ফ্রিজের নির্দিষ্ট মেয়াদ বলা নেই। তদন্ত না এগিয়ে দীর্ঘদিন ফ্রিজ থাকলে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, তবে প্রতিটি মামলা আলাদা।
ব্যাংক কি নিজে থেকে ফ্রিজ খুলে দিতে পারে?
সাধারণত না। ব্যাংক পুলিশ, সাইবার সেল বা আদালতের লিখিত নির্দেশে কাজ করে।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া মানেই কি আমি অভিযুক্ত?
অবশ্যই নয়। অনেক অ্যাকাউন্টধারী অভিযুক্ত নন। ফ্রিজ টাকার ওপর পদক্ষেপ, অ্যাকাউন্টধারীর অবস্থান আলাদা প্রশ্ন।
আবেদন করলে কি তদন্ত থেমে যায়?
না। অ্যাকাউন্ট নিয়ে আবেদন শুধু ফ্রিজের বিষয় দেখে। তদন্ত চলতেই থাকে।
এই ওয়েবসাইট শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। এই বিষয়ে আইন এখনও বিকশিত হচ্ছে। ভারতের বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী এটি কোনও বিজ্ঞাপন বা কাজের আমন্ত্রণ নয়।