কলকাতা হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ জলপাইগুড়িতে বসে, যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রতিটি হাইকোর্টের মামলার জন্য কলকাতায় যেতে না হয়। ২০১৯ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশে এই বেঞ্চ গঠিত হয়। এস অ্যান্ড এস লিগ্যাল অ্যাডভাইজার্স-র আইনজীবীরা এই বেঞ্চে এবং প্রয়োজনে কলকাতার হাইকোর্টে মামলা পরিচালনা করেন।
কোন কোন মামলা এই বেঞ্চে হয়
- রিট পিটিশন: সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, চাকরি ও শিক্ষকদের বিষয় এবং কর নোটিসের বিরুদ্ধে আবেদন।
- জামিন ও আগাম জামিন: ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ (বিএনএসএস)-এর ৪৮৩ ও ৪৮২ ধারা।
- এফআইআর বা মামলা বাতিল: বিএনএসএস-এর ৫২৮ ধারা; এর সঙ্গে ফৌজদারি রিভিশন।
- ফৌজদারি আপিল: দণ্ড বা খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে।
- দেওয়ানি আপিল ও রিভিশন: জেলা আদালতের রায় বা আদেশ থেকে, দ্বিতীয় আপিল সহ।
কোন বেঞ্চে মামলা হবে
মামলা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে হবে, না কলকাতায়, তা নির্ভর করে ঘটনা কোথায় ঘটেছে এবং প্রধান বিচারপতির বিজ্ঞপ্তির ওপর, যা বদলাতে পারে। জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহার জেলার মামলা এই বেঞ্চের আওতায় পড়ে। ভুল জায়গায় মামলা দাখিল হলে সময় নষ্ট হয়, তাই দাখিলের আগে সংস্থা এটি যাচাই করে নেয়।
সাধারণত কী কী কাগজ লাগে
- যে আদেশ, নোটিস বা এফআইআরের বিরুদ্ধে মামলা, তার প্রতিলিপি ও তারিখ
- নিম্ন আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা কাগজ এবং পাওয়া আদেশ
- পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণ
- একই বিষয়ে আগে কোনও মামলা হয়ে থাকলে তার বিবরণ, কারণ তা আদালতকে জানাতে হয়
সংশ্লিষ্ট বিষয়
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও সাইবার আইন · জমি ও দেওয়ানি মামলা · শিলিগুড়ির আইনজীবী · ইংরেজি পাতা
সচরাচর জিজ্ঞাসা
জলপাইগুড়ির বদলে কলকাতায় মামলা করা যায় কি?
যদি মামলাটি কলকাতার এখতিয়ারে পড়ে, তবে যায়। কোন বেঞ্চে মামলা দাখিল করতে হবে তা প্রধান বিচারপতির বিজ্ঞপ্তি দেখে ঠিক করা হয়।
হাইকোর্টে মামলা করলেই কি পুলিশ বা দপ্তরের পদক্ষেপ থেমে যায়?
নিজে থেকে থামে না। ঘটনার ভিত্তিতে আদালত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে পারে, তবে তার জন্য আবেদন করতে হয়।
আমাকে কি নিজে আদালতে হাজির থাকতে হবে?
আইনজীবী পক্ষের হয়ে হাজির থাকেন। আদালত চাইলে পক্ষকে সশরীরে ডাকতে পারে।
হাইকোর্টের মামলা কতদিন চলে?
নির্দিষ্ট সময় বলা যায় না। জরুরি আবেদন তাড়াতাড়ি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত শুনানি আদালতের তালিকার ওপর নির্ভর করে।
এই ওয়েবসাইট শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। ভারতের বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী এটি কোনও বিজ্ঞাপন বা কাজের আমন্ত্রণ নয়।